Sun Sun Sun Sun Sun
English

সহজ-সরল ও স্বাভাবিক থাকা তথা ন্যাচারাল হওয়ার মাধ্যমে সৃজনশীলতা ও জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি

|| ড. এম হেলাল ||
দ্রুতগতির যানবাহনের জন্য যেমনি সোজা রাস্তা দরকার, তেমনি মানুষের চিন্তাশক্তির বিকাশ এবং স্রষ্টার আনুকূল্যের জন্য সরল মন দরকার। কারণ গভীর ও দূরের লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছাতে আঁকা-বাঁকা পথ তথা দ্বিধান্বিত চিন্তা-চেতনা বা মন-মানসিকতা বিরাট প্রতিবন্ধক। দূরবর্তী গন্তব্যে পৌঁছার জন্য গাড়িকে যেমনি সোজা রাস্তায় তেজী গতিতে চলতে হয়, মানবজীবনেও লক্ষ্য অর্জন বা লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য তেমনি সরল চিন্তা ও সরল বিশ্বাস অত্যাবশ্যক। সরল চিন্তা ও বিশ্বাসের মাধ্যমে প্রকৃতি ও স্রষ্টার মহাশক্তির সাথে নিজকে সংযোগ বা Align করে আত্মশক্তি বৃদ্ধিতে সক্ষম হওয়া যায়। তাই `সরল চিন্তা` জীবন যুদ্ধের জ্বালানিরূপে কাজ করে, যে `জ্বালানি` সর্বদাই শক্তিতে পরিণত হয়ে লক্ষ্য অর্জনকে করে তোলে সহজ ও নিশ্চিত। 

জনৈক ইংরেজ কবি বলেছেন প্রকৃতির যত কাছে মানুষ যাবে, ততই সে স্রষ্টার নিকটবর্তী হবে। তাই ন্যাচারাল বা সহজ-সরল মানুষরা অন্যদেরতো বটেই, স্রষ্টার নিকটও প্রিয়। সহজ-সরলদের জীবন-কর্মের আউটপুটও বেশি। অথচ শৈশব-কৈশোর ও যুব বয়সেই চারপাশের নানা নেগেটিভ তথ্য এবং শয়তান বা ইবলিস আমাদের মস্তিষ্ককে এমনই জটিল করে ফেলে যে সবকিছুতেই আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জটিল ও কনফিউজড হয়ে পড়ে; সহজতা ও সৃজনশীলতার গতি ধীর হয়ে যায়। চিন্তার সারল্য এবং রুচি-বুদ্ধির সৌন্দর্য কমে গিয়ে জীবন-কর্মের আউটপুট হ্রাস পায়। Positive thinking power কমে যায় বলে রোগ-শোক, ব্যথা-বেদনা জয় করা কঠিন হয়ে পড়ে, সুখের জীবনের অনেক সময়ই কাটে দুঃখে, নিরানন্দে ও ট্র্যাজেডিতে।

আমাদের শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলোর মধ্যে ব্রেন হচ্ছে সবচেয়ে সহজ-সরল। আমি তথা আমার আত্মা ব্রেনকে যে তথ্য দেই, ঐ তথ্যের ভিত্তিতেই ব্রেন আমার সকল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে নির্দেশনা পাঠায় তথা পরিচালনা করে। 

যে ব্রেন আমাদের সমগ্র দেহের পরিচালক, তাকে যদি কনফিউশন বা জটিলতা-কুটিলতায় আবদ্ধ ও নিবদ্ধ করে ফেলি, তাহলে ব্রেন Hang হয়ে যাবে। ফলে সৃজনশীলতাতো দূরের কথা, স্বাভাবিক কাজকর্মের গতিও নষ্ট হয়। তখন কনফিউজড ও অস্বাভাবিক ব্রেনের কমান্ডে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঠিকভাবে পরিচালনা দুরূহ; সুস্থতা বা রোগ প্রতিরোধতো দূরের কথা। ব্রেন নিজেই অস্বাভাবিক ও অসুস্থ হয়ে শরীরে দুর্বল ও অসুস্থ কমান্ড পাঠাতে থাকে। সহজ-সরলতার স্থলে আমারই সৃষ্ট জটিলতা-কুটিলতা ব্রেনকে জটিল করে ফেলার কারণে শারীরিক নানা Disorder, বৈকল্য ও অসুস্থতা জন্মে।  শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সে অসুখ ভালো করতে ডাক্তার-ফার্মেসী আপাতত সক্ষম হলেও ঐ রোগের মূলোৎপাটন হয় না। সে রোগ সমূলে দমন করার জন্য চাই ব্রেনকে সুস্থ-স্বাভাবিক ও সহজ-সরল পথে নিয়ে যাওয়া। 

নিজের ভুবনে সহজ-সরলতা বা ন্যাচারালিটি হারিয়ে যারা জটিলতা ও কৃত্রিমতা তৈরি করে নিজ ব্রেনকে Hang করে দেয় অথবা ব্রেনের কার্যকারিতার গতি কমিয়ে দেয় এবং স্রষ্টা প্রদত্ত ব্রেনের মহাশক্তিকে ব্যবহারে ব্যর্থ হয় তারা কত বড় হতভাগা!  সরলতাই স্বাভাবিকতা, আর স্বাভাবিকতাই সুস্থতা। অন্যদিকে জটিলতা, কুটিলতা ও অস্বাভাবিকতা মানেই অসুস্থতা।

আমরা জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে কাজ করব; কূটবুদ্ধি বা জটিলতার আশ্রয় নেব না। বুদ্ধি ও কূটবুদ্ধি সম্পূর্ণ বিপরীত বিষয়, সরল অংক ও জটিল অংকের ন্যায় কিংবা সুন্দর ও অসুন্দরের ন্যায়। বুদ্ধিমান মানুষ সরলতার আশ্রয়ে জ্ঞানী-বিজ্ঞানী হয়ে ওঠে। আর কূটবুদ্ধিমানরা জটিলতায় পড়ে বোকা ও ব্যর্থ হয়ে যায়। সরল সুবুদ্ধি যেমনি সৃষ্টি ও সমৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন, কুবুদ্ধি তেমনি ধ্বংস ও অমঙ্গলের ছায়াসঙ্গী। তাইতো হিন্দু ধর্মের সাধক শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বলেছেন আমি তোমাকে সব দেব, তুমি আমাকে শুধু সরলতা দাও। 

প্রিয় পাঠক, আসুন সরলবুদ্ধি চর্চার মাধ্যমে জ্ঞানী হয়ে উঠি, উন্নততর বিশেষ মানুষ তথা বিশেষ জ্ঞানী বা বিজ্ঞানী হই। কারণ সরলতাই সৌন্দর্য, সরলতা চলে গেলে সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যায়।  তাই জীবন চলার পথে সর্বক্ষেত্রে সর্ববিষয়ে জটিলতা-কুটিলতা, সন্দেহ-সংশয় পরিহার করে সহজ-সরল হোন, ন্যাচারাল থাকুন; এতে আপনার সুস্থ-সবল থাকা, দীর্ঘজীবী হওয়া এবং সৃজনশীল ও জনপ্রিয় হওয়ার পথ সুগম হবে।