Sun Sun Sun Sun Sun
English

সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে নাটক
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে

|| ড. এম হেলাল ||
গত ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার পিজি হাসপাতাল মিলনায়তনে ইনভাইট থিয়েটার প্রযোজিত প্রথম নাট্যানুষ্ঠানে লক্ষ্মীপুর বার্তা ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পত্রিকার সম্পাদক, সাবেক ছাত্রনেতা ও যুব সংগঠক এম হেলাল বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

জনাব হেলাল এদেশে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সদ্য প্রতিষ্ঠিত ইনভাইট থিয়েটারের মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আয়োজনের মাধ্যমে সৃজনশীল নাট্যচর্চা আমাদের সংস্কৃতিকে সত্যিকারার্থে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাবে। তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন আন্দোলনে সাংস্কৃতিক কর্মীদের সাহসী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা ও এর অখন্ড বিকাশে সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানান।

আবুল হোসেন মাস্টার -এর রচনা ও নির্দেশনায় মঞ্চস্থ নাটক ‘লাশের মালিক দারোগা’র কাহিনী সংক্ষেপ করলে দেখা যায়, নোয়াখালী অঞ্চলের লক্ষ্মীপুর জেলার কোনো এক গ্রামে সুরুজ মিয়ার বাস। ধার্মিক ঐতিহ্যের মাঝে সামাজিক চলন বলন। এক ছেলে, এক মেয়ে নিয়ে পরিকল্পিত সুখী পরিবার। স্বামী-স্ত্রীর স্বপ্ন ছিল মেয়েকে ভাল ঘর ভাল বর দেখে বিয়ে দিবে। বাস্তবেও তাই করল, কিন্তু তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হলো না। জামাইয়ের চেহারা ছিল দারুণ আকর্ষণীয়। কিন্তু তাহলে কি হবে! চেহারার সাথে চরিত্রের মিল হলো না। তাস জুয়ায় সবসময় মত্ত থাকতো রাজপুত্রের মতো জামাই। যৌতুকের টাকা, গহনা জুয়া খেলে উড়িয়ে দিল সে। সংসার খরচের জন্য শ্বশুর বাড়ি থেকে টাকা আনাতো স্ত্রীকে দিয়ে। এক পর্যায়ে স্ত্রী আর বাপের বাড়ি যাবে না এবং টাকা আনবে না বলে জেদ ধরল। স্ত্রী আশুরা শ্বশুরের বন্ধু মেম্বার সাহেবের নিকট বিচার চাইতে গেল। কিন্তু সেখানে তার ইজ্জত হারাবার উপক্রম। মেম্বারের খাস লোক রইস্যার কারণে আশুরার ইজ্জত বাঁচলো। ছুটে এলো স্বামীর বাড়িতে। বাড়িতে ঢুকেই স্বামী গণি তাকে জিজ্ঞেস করল সে টাকা এনেছে কি না। আশুরা জবাব দিল- না। স্ত্রীর মুখে টাকা না আনার কথা শুনে আশুরাকে নির্দয়ভাবে প্রহার করলো। বেদম প্রহারে মারা গেল আশুরা। এ পর্যায়ে আশুরার ভাই ওসমান ভগ্নিপতির কার্যকলাপের প্রতিবাদ করতে এসে বোনের মৃতদেহ দেখে ভেঙ্গে পড়ে।

আমাদের সমাজে ময়না তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত লাশের মালিক (অপমৃত্যুর ক্ষেত্রে) সাধারণত থানার দারোগাই হয়। এখানে স্বামীর নির্দয় প্রহারে মারা গেল আশুরা। তার এ মুত্যু অপমৃত্যু। সুতরাং এ লাশের মালিকও দারোগা। লাশের কোন স্বজনের পক্ষে তাকে স্পর্শ করা সম্ভব নয়...।

নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় রচিত নাটকটি নিঃসন্দেহে আমাদের সমাজে প্রচলিত অভিশপ্ত যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে এক জোরালো ও সোচ্চার প্রতিবাদ। নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সকল প্রকার বৈষম্য আর বঞ্চনার বিরুদ্ধে নাটক ’লাশের মালিক দারোগা’ সত্যি এক সাহসী প্রযোজনা।

(১৯৯৫ সালে লক্ষ্মীপুর বার্তা পত্রিকার অক্টোবর সংখ্যায় মুদ্রিত)