Sun Sun Sun Sun Sun
English

মা-বাবা থেকে মানবাধিকার বঞ্চিত সন্তানদের কাছে সমাজ ও রাষ্ট্র কীরূপ মানবাধিকার আশা করবে

|| ড. এম হেলাল ||
মানবাধিকার নিয়ে মুখে মুখে মাতাল আমরা সবাই এবং ঘটা করে বিশ্ব মানবাধিকার দিবস পালনেও আমরা উন্মুখ-উতলা। কিন্তু ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে আমরা কি মানবাধিকার পালন-লালন কিংবা বাস্তবায়ন করছি? আর ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনে নিজেরাই যদি আপনজনদের সাথে মানবাধিকার লঙ্ঘন করি, পরিবারেই যদি সহিংসতা ও ত্রাস চালাই; তাহলে রাষ্ট্রীয় জীবনে কিংবা বিশ্ব পরিসরে মানবতা আসবে কি আকাশ থেকে?

বিশ্ব মানবাধিকার দিবস এলেই সমাজে, রাষ্ট্রে ও বিশ্বপরিসরে মানুষের মানবিক অধিকার নিয়ে আলোচিত হয়। কিন্তু সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বের সৃষ্টি যেই পরিবার থেকে -সেই পরিবারে কি মানবাধিকার আছে? পরিবারে-পরিজনে মানবতার চর্চা, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ না থাকলে সমাজে ও জাতিতে মানবতা জাগবে কী করে? আমরা গাছের ফুল-ফল, ডালপালা নিয়েই মাতোয়ারা; গাছের মূল কিংবা মূলের রোগ নিয়ে মাথা ঘামানোর এমনকি দৃষ্টি দেবারও ফুসরত কই! তাই এবারে আসুন, রাষ্ট্রে ও বিশ্বপরিসরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল প্রতিপাদ্যে তথা প্রকৃত সত্যের অনুসন্ধানে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার ছাত্র-জীবনের পরপরই আমি কয়েকবছর বাংলাদেশের ৬৪ জেলাসহ প্রায় সব উপজেলা বার বার করে ঘুরেছি, অধ্যয়ন করেছি; আর লিখেছি বাংলাদেশ অধ্যয়ন সম্পর্কিত কলাম। সেই স্টাডিতে আমাদের দেশে ও জাতিতে যেসব সমস্যা পেয়েছি, সেই সমস্যা কীভাবে সমাধান করেছে উন্নত দেশ বলে খ্যাতরা তা জানতে ও বুঝতে বিভিন্ন উন্নত দেশ বিশেষত ইউরোপের মূল ভূখন্ডের দেশগুলো বার বার ঘুরেছি এবং লিখেছি নিয়মিত কলাম, ‘বিলেতে যেতে যেতে’ এবং তারপর সব মিলিয়ে লিখেছি গ্রন্থ ‘বাংলাদেশ ও বিশ্ব অধ্যয়ন’। আমার এরূপ জানায়-বুঝায়-অধ্যয়নে ধরা পড়েছে যে- আমাদের পরিবার প্রথার অনেক ভালো দিক থাকলেও এ প্রথার অন্তরালে অশান্তি-ট্র্যাজেডিও কম নয়। এসব ট্র্যাজেডির প্রথম স্রষ্টা আমরা মা-বাবারা। সন্তানের প্রতি তাদের সৃষ্ট অমানবিক আচরণ ও নানা ট্র্যাজেডির সূত্র ধরেই অধিকাংশ পরিবারে জন্ম নেয় কম-বেশি অসুস্থ ও অপ্রকৃতস্থ সন্তান। এরূপ সন্তানরা একদিকে তাদের শিশু-বয়সে হেলাফেলার পরিণামে মা-বাবার ওপর চালায় প্রতিশোধ-খড়গ; আবার অন্যদিকে সমাজে ও জাতিতে তৈরি করে অস্থিরতা ও অসুস্থতা।

আজকের শিশু-তরুণরাই দেশের ভবিষ্যৎ, আগামীর জাতি তথা অনাগত বাংলাদেশ। তারাই বাস্তবায়ন করবে আমাদের কাঙ্খিত স্বপ্ন। তাদের হাত ধরেই অঙ্কিত হবে আমাদের সমৃদ্ধ দেশ ও জাতি বিনির্মাণের পথনকশা। সেক্ষেত্রে এখনকার এই শিশু-তরুণদেরকে যদি আমরা মানবিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত করতে ব্যর্থ হই কিংবা উপরোক্তরূপে উদাসীন থাকি, তাহলে আমাদের আগামীর বাংলাদেশ হবে উগ্র-উচ্ছৃঙ্খল ও স্বার্থান্ধদের কুরুক্ষেত্র। আমরা যদি সমাজে-জাতিতে ও রাষ্ট্রে প্রকৃত মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই, তাহলে মানবিক আচরণ ও মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে প্রথমেই পরিবারে; অর্থাৎ মা-বাবার কাছ থেকে সন্তানের মানবাধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে সর্বাগ্রে। কারণ মা কিংবা বাবার কাছে আজকের সন্তানের মানবাধিকার ভুলুন্ঠিত করে ভবিষ্যৎ সমাজ ও জাতির কাছে মানবাধিকার আশা করা বৃথা।

বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতার কাছে স্নেহ-মায়া ও শিশু-মানবিক মৌলিক অধিকার লাভ করায় এবং এরূপ মানবাধিকারের গণতন্ত্র ও সততার দীক্ষা পরিবারে পেয়েছেন বলেই জননেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর ঐরূপ কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে আজ গণতন্ত্রের মানসকন্যারূপে সবার কাছে হয়েছেন বরণীয়, পেয়েছেন বিশ্বপরিসরে মাদার অব হিউম্যানিটি স্বীকৃতি। অথচ সবার অনুকরণীয় বঙ্গমাতা এবং জননেত্রীর এ দেশেই কতিপয় নারী এবং পুরুষ তাদের শিশু-সন্তানকে মানবাধিকার তথা মৌলিক শিশু-অধিকার থেকে নিষ্ঠুরভাবে বঞ্চিত করার পরিণামে তথা পরিবারে গণতন্ত্রের চর্চা না থাকার কারণে এ সমাজে তৈরি হচ্ছে উচ্ছৃঙ্খল ও অপ্রকৃতস্থ তরুণ-যুব সমাজ, যা আগামীর নিরাপদ সমাজ ও সুস্থ জাতির জন্য অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। আমার স্বচক্ষে দেখা এরূপ বেখাপ্পা-বেপরোয়া ও উচ্ছৃঙ্খল ক’টি পরিবারের মধ্য থেকে এ স্বল্প পরিসরে একটি পরিবারের বাস্তব উপাখ্যান-উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্বচ্ছ করছি।

এক নারী তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী-জীবনেই দু’বার বিয়ে করেন একই যুবককে; একবার সঙ্গোপনে ঐ যুবককে লালমাটিয়া কাজী অফিসে নিয়ে গিয়ে; অন্যবার পারিবারিক আয়োজনে মগবাজার কাজী অফিসের মাধ্যমে। এরপর তার অতীতের ঘৃণ্য ট্র্যাজেডি ঢাকবার প্রয়াস! ঐ বিবাহের পূর্বসময়ে স্কুল-কলেজের কিশোরী বয়সেই লুকিয়ে আরেক প্রেম-বিয়ে করার এবং সেখানে প্রেমিক-স্বামী ত্যাগের অমানবিক কা-কীর্তন তথা আরেক যুব-জীবন হননের কেলেঙ্কারি চাপা দিতে দ্রুত নিয়ে নেন সন্তান। এভাবে তার বিভিন্ন ফন্দিতে তিনি বিভিন্ন সময়ে ৩টি সন্তান নেন এবং প্রত্যেকবারেই শিশু-সন্তানের জন্মের পর তাদেরকে স্বামীর কাছে রেখে তিনি বিদেশে চলে যান। উচ্চতর ডিগ্রি, পিএইচডি, চাকরি, ফিগার নষ্ট হয়ে যাওয়া ইত্যাকার অজুহাতে তিনি সন্তানদেরকে তাদের মৌলিক অধিকারের বুকের দুধও খাওয়াননি। ফিগার নষ্ট হয়ে যাবে বলে কিংবা চাকরি করার অজুহাতে যখন কোনো মা তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানো থেকে বঞ্চিত রাখেন কিংবা অবোধ-অসহায় শিশুকে মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত করেন, তখন সেটি কি সন্তানের প্রতি মা’র নিষ্ঠুর মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়? সন্তান মা’র বুকের দুগ্ধ থেকে এবং মাতৃস্নেহ-ভালোবাসা ও সাহচর্য থেকে যে বঞ্চিত হয়েছে, এ প্রবঞ্চনাতো আর কোনো কালেই কোনো কিছুতেই ঘুচবে না, মিটবে না। অবুঝ-অবোধ সন্তানের প্রতি মা কিংবা বাবার এরূপ মানবাধিকার লঙ্ঘন খুবই ট্র্যাজেডির এবং আমার মতে যা ক্ষমার অযোগ্য। কারণ আলোচ্য ক্ষেত্রে সন্তানের প্রতি অপূরণীয়-অমার্জনীয় এ নিষ্ঠুর প্রবঞ্চনা কিন্তু মা’র দেশজ মৌলিক শিক্ষার জন্যে নয়; তা ছিল তার উচ্চতর ডিগ্রির ও চাকরির অজুহাত-উছিলায় পেটের শিশু-সন্তানদেরকে দেশে ফেলে রেখে তার নিজের একান্ত অভিলাসী বিদেশ-বিলাস। ওদিকে আহাম্মক বাবার অবস্থা! তিনিও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষস্থানীয় বিষয়ে সরবে অধ্যয়ন করা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণকর্মে নিবেদিত হয়ে ডায়নামিক ও আধুনিক বিভিন্ন কর্মসূচিতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। তার নিজ জীবনের এরূপ বহুবিধ লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকা সত্ত্বেও এবং সেসব বাস্তবায়নে সবার নন্দিত প্রতিষ্ঠান খুলেও ক্লাসে ফার্স্টক্লাসধারী উচ্চশিক্ষিত স্ত্রীর বিলাসী জীবনের গ্যাড়াকলে ও ঘুরপাকে পড়ে অবশেষে নিজ উচ্চাকাঙ্খা, শখ-সাধনা, সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য জলাঞ্জলি দিয়ে কেবল স্ত্রীকে পৃষ্ঠপোষকতাদানে সবকিছু উজাড়-উৎসর্গ করতে থাকেন।

স্ত্রীর প্রতি স্বামীর উৎসর্গ-অবদানের কথা স্ত্রী নিজ হাতেই একটি আর্টিকেলে লিখেন। তাতে তিনি লিখেন- - আমার স্বামী আগাগোড়া একজন আধুনিক চিন্তার মানুষ। তিনি জীবন-জগৎ নিয়ে নতুন নতুন উপলব্ধিতে সমৃদ্ধ। সেই উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ কখনও কোমল, কখনও কঠিন। কিন্তু বাস্তবতা হলো- এমন একজন মানুষের অনেক কাছে থাকলেই বোঝা যায় এ মানুষটি দারুণ আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী, যার আলো নেয়ার ক্ষমতা অনেকের থাকে না বলেই তাঁকে ভুল বুঝতে পারে; কিন্তু যারা তাঁর দর্শনগুলো বুঝতে পারে, তারা নিজেরাও আলোকিত হয়ে যায়। -সত্যবাদিতার প্রতি আমার স্বামীর অপরিসীম অনুরাগ এবং মিথ্যাচারের প্রতি ভীষণ বিরাগ। তাই সর্বদাই ভালো কাজকে Welcome করেন, আর মন্দ কাজকে Resist করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠানে ও পরিবারে তাই ভালো কাজের জন্য রয়েছে পুরস্কার, আর মন্দ কাজে রয়েছে তিরস্কার। -আমার স্বামী সহজ-সরলপ্রাণ মানুষ। গরিব-দুঃখী সাধারণ মানুষের জন্য ভীষণ সহানুভূতিপ্রবণ তিনি। ঈদ-শবেবরাতসহ নানা সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসবে তিনি সর্বপ্রথম আপ্যায়ন করেন বাড়ির ও অফিসের দারোয়ান-গার্ড-পিয়ন-বুয়া-ঝাড়–দার -এদের; তারপর অন্য অতিথি আপ্যায়ন এবং অতঃপর নিজের খাবার। ...এরূপভাবে ৮ পৃষ্ঠাব্যাপী ১৫টি পয়েন্টের শেষ পয়েন্টে তিনি লিখেন- এভাবেই বিজ্ঞানমনষ্ক, যুক্তিবাদী, অন্যের অধিকার সচেতন, সংবেদনশীল, সৃজনশীল একজন মানুষের সাথে আমার জীবনকে সংযুক্ত করতে পেরে আমি আমার জীবনাদর্শও সমৃদ্ধ করেছি।

এরূপ ব্যতিক্রমী স্বামী-ব্যক্তিত্বের সেই স্ত্রী বিদেশ থেকে দেশে আসেন; একদিকে উচ্চ চাকরি নেন এবং আরেক ব্যস্ত জীবনে লিপ্ত হন, অন্যদিকে কিশোর-কিশোরী সন্তান তথা তরতাজা রেডিমেড বড় বড় সন্তানের মা হয়ে বড় চাকরির ক্ষমতা ও ৩ সন্তানের মালিকানার স্পর্ধা দেখাতে থাকেন সবাইকে; অহংকার-ঔদ্ধত্যের বুলি আওড়াতে থাকেন নিজ অফিসে-পরিবারে-সংসারে-সমাজে-সেমিনারে-মিটিংয়ে, বক্তৃতা-বিবৃতিতে; এমনকি মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারেও প্রচার করে জনপ্রিয় করতে থাকেন নিজ উচ্চডিগ্রির দম্ভ এবং স্বামী-সন্তানে নিজ-সাফল্য। আর নিরীহ গোবেচারা স্বামীও স্ত্রীর ঐরূপ স্পর্ধায় স্পন্দিতবোধে সবকিছু স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেন। ভাবেন- সে যত বড়ই হোক না কেন, সে আমারইতো স্ত্রী, আমার আপনজন। বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর নানা অনৈতিক বিষয়ে স্ত্রীরই অফিস-কলিগ এবং বিদেশস্থ সহপাঠী ও বন্ধুদের কাছ থেকে স্বামীর কাছে তথ্য আসতে থাকে। তবুও তিনি স্বভাবজাত সরলতায় সেই নেতিবাচকতাকে জ্ঞানত ধারণ করতে চাননি; বরং স্ত্রীর প্রতি আরো অধিক উদারপ্রাণ হয়ে তাকে নিরন্তর সহযোগিতা ও সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা দান করে স্ত্রীকে নারীনেত্রীরূপে সম্মুখ চলার পথ উন্মুক্ত ও প্রশস্ত করে দিতে থাকেন। স্বামীর একক প্রচেষ্টায় ও শ্রম-সাধনায় সন্তানদেরকে পারিবারিক শিক্ষায়, নিজের অফিসে খন্ডকালীন অফিসিয়াল ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা-প্রশিক্ষণ-অভিজ্ঞতায় এবং সামাজিক দীক্ষায় বড় করে তাদেরকে কলামিস্ট, গ্রন্থকার, শিক্ষানবিশ হিসেবে স্কুল-জীবনেই সফল করে তোলেন। ঐ ছোট্ট বয়সেই সন্তানদেরকে প্রধানমন্ত্রীর অফিস, সকল মন্ত্রণালয়, সুপ্রীমকোর্ট, জাতীয় সংসদ ভবনসহ বড় বড় সকল দপ্তর পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ, মন্ত্রী-সচিব, বিচারপতি, ভিসিদের সাথে Interaction করিয়ে আগামীর দুর্জয় সাহসী যোদ্ধারূপে তৈরি করতে থাকেন। এছাড়া স্কাউট-লিডার, ব্যাংক একাউন্ট হোল্ডার, পরিবারে ও বাবার প্রতিষ্ঠিত অফিসে জীবনমুখী অসংখ্য প্রোগ্রামে ও সেশনে অংশগ্রহণ ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বগণের সাথে Interaction এবং অনুষ্ঠান ও প্রোগ্রাম উপস্থাপনার মাধ্যমে হাতে-কলমে ব্যাপক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদেরকে আগামীর দেশ ও জাতির সুযোগ্য ও বলিষ্ঠ কর্ণধাররূপে গড়ে তুলতে থাকেন। কলামিস্ট ও গ্রন্থকার হওয়াসহ সন্তানদের এত্তসব ঈর্ষণীয় ও ব্যতিক্রমী অর্জন স্কুল-জীবনেই সম্ভব হয়েছে পরিবার-বৎসল সুদক্ষ ও সাধক বাবার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও নিরন্তর সাধন-প্রচেষ্টায়। কারণ তাদের বাবা নিজে ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং নীতিদর্শন ও ধর্মীয় আচার-অনুরাগের সৎ ও মহৎ জীবনযাপন করে আসছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ে অংকের কঠিন বিষয়ের ছাত্রত্বের পাশাপাশি ১৮ সংগঠনে সংশ্লিষ্ট থেকে প্রচুর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-সংসদে ছাত্রদের নির্বাচিত নেতা, পত্রিকার সম্পাদক, কলামিস্ট; এশিয়াটিক সোসাইটি, বাংলা একাডেমিসহ জাতীয় বহু প্রতিষ্ঠানের আজীবন সদস্য হয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-জীবনেই। এরপর উন্নত বাংলাদেশের রূপরেখায় প্রণীত দু’টি গবেষণা মডেল ও নিয়মিত কলাম-আর্টিকেলসহ তাঁর প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ২৪টি। ব্যাপক নন্দিত এসব বইয়ের কোনোটিই ৫,০০০ এর কম মুদ্রিত নয়। সে ধারাবাহিকতায়ই তার দূরদর্শী চিন্তা-চেতনার প্রতিফলনে নিরন্তর অঙ্ক কষে নিজ পরিবারে স্ত্রী ও সন্তানদেরকে ব্যতিক্রমী করে গড়ে তোলার জন্য অনুপম অবদান রেখেছেন। অন্যদিকে স্কুল-কলেজ জীবনেই চরিত্রহারা ধুরন্ধর স্ত্রী দেখেন যে- তার সন্তানরা শিশুবেলা থেকে বাবার কোলে-কাঁধে বড় হওয়া, মানুষ হওয়া। এরা বাবার আদর্শ ও ত্যাগ-তিতিক্ষার ভক্ত ও অনুরাগী। বাবার প্রতি তাদের এসব ভালোবাসা ও অনুগামীতাকে রুখে দিতে হবে। তাই গঠনমূলক জীবনাচারে গড়ে ওঠা গ্রন্থকার-কলামিস্ট শিশু-কিশোরদেরকে কক্ষচ্যুত করে নিজের প্রতি অন্ধ অনুরাগ সৃষ্টির প্রয়াস-ধান্দায় মেতে উঠেন। নিজের অন্যায় ও অবৈধ অর্জনের অঢেল টাকায় স্বামীর অগোচরে সন্তানদের হাতে তুলে দেন লেটেস্ট স্মার্টফোন, ট্যাব, ল্যাপটপ, ডিএসএলআর ক্যামেরা; আর বাসায় দিয়ে দেন ওয়াইফাই এর সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট লাইন।

মা’র কুমন্ত্রণায় এরূপ চাকচিক্যময় লোভনীয় জীবনের আকর্ষণে অবুঝ ও সহজ-সরল সন্তানদের মতিভ্রম হয়ে যায় অতিদ্রুত। তারা বাবার সুদূরপ্রসারী ধ্যান-ধারণার অভিভাবকত্বে চলমান লেখালেখি, অধ্যয়ন ও বিভিন্ন সাধন চর্চাকে সেকেলে ভেবে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ডিভাইসের প্রতি অন্ধ অনুরাগ-আবেগে জড়িয়ে মা’র বিত্ত-বৈভবের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। মা’র কুমন্ত্রণায় পড়ে প্রোএকটিভ এ সন্তানরা বাবার প্রোজ্জ্বল চিত্তের ভালোবাসাময় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণগুলোকে এড়িয়ে চলতে থাকে; ভুলে যায় তাদেরকে শিশু থেকে বড় করার ক্ষেত্রে বাবার ভূমিকা এবং অন্য শিশু-কিশোরদের তুলনায় তাদের ব্যতিক্রমী সৃজনশীলতা ও দক্ষতায় বড় করার ক্ষেত্রে বাবার ত্যাগ, সাধনা আর অবদানকে; বরং মা’র লোভনীয় প্রশ্রয়ে অতিদ্রুত মা’র প্রতি অনুরাগী হয়ে পড়ে। বাবাতো গণতন্ত্রমনা উদারপ্রাণ লেখক, কলামিস্ট; তাই স্ত্রীর এসব কুমন্ত্রণা ও ব্যভিচারকেও নেন এভাবে- এরাতো আমারই স্ত্রী-সন্তান; আমার কর্মশ্রমে গড়ে তোলা পরম আপনজন! সন্তানদেরকে বিভ্রান্তিতে ঠেলে দিয়ে সেই মোক্ষম সুযোগে মাও তার বাইরের জগতে স্বাধীন বিচরণ বাড়াতে থাকেন। ঘুম থেকে উঠে সকাল ৮টায় বাইরে চলে যান সন্তানদেরকে বুয়া আর ড্রাইভারের কাছে এবং স্বামীর তত্ত্বাবধান-তালাশে রেখে; আর বাসায় ফিরেন রাতে; মিডিয়ায় টকশোসহ সব শো ভোগ-উপভোগ করে মধ্যরাতে; এমনকি কোনোদিন শেষরাতেও। এভাবে সরলমনা ও উদারপ্রাণ স্বামীর উৎসর্গ-ভালোবাসার প্রশ্রয়ে অর্থ-বিত্তে, ক্ষমতায়, পেশা ও পেশির শক্তিতে স্বামীর মাথার উপর উঠে যাওয়া স্ত্রী পরপুরুষের আবেগ-আকর্ষণে পড়ে পৃষ্ঠপোষক স্বামীকে তাচ্ছিল্য করতে থাকেন; অন্যদিকে সন্তানদেরকে তাদের বাবা-বিরোধী করে ফেলতে থাকেন। বাইরের আলগা-আবেগের তুঙ্গে উঠে নির্দয়ভাবে সংসার ভেঙে দেন। স্বামীর সাথে কোনোরূপ আলাপ-আলোচনা না করেই, কোনোরূপ কারণ দেখানো ব্যতিরেকে, দু’পরিবারের কাউকে না ডেকে, না জানিয়ে একক আবেগী ইচ্ছায় এবং বড় দু’সন্তানকে কুমন্ত্রণায় ফেলে তাদের সহযোগিতায় ডিভোর্স লেটার পাঠিয়ে দেন স্বামীর অফিসে; অধিকন্তু ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়ে আর বাসায় যেতে মানা করে দেন।

অকস্মাৎ বাসা থেকে বের করে দেয়া স্বামী কোথায় খাবে, কোথায় ঘুমাবে, কোথায় থাকবে -সেরূপ মৌলিক মানবিক চিন্তার কোনোই তোয়াক্কা নেই নিষ্ঠুর অমানুষ, অথচ উচ্চতম ডক্টর ডিগ্রির এ উদভ্রান্ত স্ত্রীর। শুধু তাই নয়, ব্যভিচারিণী এ স্ত্রী এতটুকুন বিবেক-বুদ্ধিও হারিয়ে ফেলেন যে- বহু আলাপ-আলোচনা ও পারিবারিক সভার মাধ্যমে যেই দাম্পত্য শুরু, তা ভাঙতে স্বামীর সাথে আলোচনা ও পরিবার-পরিজনের সম্মতি দরকার। তাছাড়া এই একই স্বামীর সাথে দু’টো কাবিননামার কোনটির বিপরীতে ডিভোর্স দিয়েছেন, তাও তিনি স্পষ্ট করেননি। এভাবে বেপরোয়া প্রভাব-প্রতিপত্তিতে অসহায় স্বামীর প্রতি ও নিজ পেটের ৩ সন্তানদের নিরুপায় বাবার প্রতি এ ভয়ঙ্কর নারী নিষ্ঠুরতম নির্যাতন-অত্যাচার-শত্রুতা চালাতে থাকেন; পুলিশে-র‌্যাবে, মহিলা সমিতি ও ইত্যাকার বহু জায়গায় ক্ষমতাধর নারী ও মিডিয়া পরাক্রমশালী হিসেবে প্রভাব খাটিয়ে মিথ্যাচার ও আজগুবি তথ্যের নালিশ দিয়ে তাদের দ্বারা স্বামীর ওপর পাশবিক নির্যাতন ও শত্রুতায় একরোখা-বেপরোয়া হয়ে যা যা করার, যত্ত ক্ষমতা খাটানোর সুযোগ তার রয়েছে, সেইসবের সকল পৈশাচিকতাই তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন তার ২৪ বছরের স্বামী ও ৩ সন্তানের বাবার ওপর। গণতন্ত্র-আইন-নিয়ম ও শৃঙ্খলার প্রতি অগাধ অনুরাগী এবং স্ত্রীর আকস্মিক আঘাতে অসহায়-নিরুপায় হয়ে পড়া গোবেচারা স্বামী পরিবার না ভাঙতে বিশেষত শিশু-সন্তানদের জীবন না ভাঙতে সর্বচেষ্টা করেন; এমনকি শেষতক পারিবারিক জজ-আদালতে পরিবার পুনরুদ্ধার মামলাও করেন। কিন্তু স্ত্রী অঢেল টাকার প্রভাবে কোনোদিন কোর্টে না গিয়ে দুর্বল আইনের সুযোগ নিয়ে উকিল দিয়ে সে মামলাও ব্যর্থ করে দেন।

চরম নিষ্ঠুর নির্দয় ও পৈশাচিক এসব কর্মকান্ড চলেছে একটি পরিবারের একজন উচ্চডিগ্রিধারী প্রভাবশালী নারীর কুচরিত্রের কুকীর্তিতে- শিশু-সন্তানের ওপর এবং উদার পৃষ্ঠপোষক স্বামীর ওপর। পরিবারে মানবাধিকার লঙ্ঘনের এরূপ কলঙ্কজনক অধ্যায়ের কথা অনেকেই জানলেও সাহস করে এগিয়ে আসেনি কেউ এ ক্ষমতাধর নারীর বিরুদ্ধে কিংবা অসহায়ে অসার হয়ে হয়ে একাকী নির্জন-নিরালায় ও নিভৃতে চলে যাওয়া মৃত্যুপথযাত্রী স্বামীর পক্ষে। এটিইতো আমাদের মানবাধিকার আন্দোলনের স্বরূপ এবং এই আমরা অনেকেই কিন্তু মানবাধিকার আন্দোলনের খইভাজা সুবক্তা ও বড় বড় নেতা এবং পারিবারিক ভালোবাসা আন্দোলনের সুনেত্রী। এরূপ বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্ব মানবাধিকার দিবসে আমি সকল মান্যবর মানবাধিকার কর্মী ও সংগঠক-নেতৃবৃন্দের কাছে সবিনয়ে জানতে চাই- সন্তান-সম্ভবা স্ত্রীকে স্বামী কর্তৃক ডিভোর্স দেয়া কিংবা সন্তান পৃথিবীতে আসার পরে মা কর্তৃক সেই সন্তানের বাবাকে ডিভোর্স দেয়া -এ দু’টিই অত্যন্ত অমানবিক ও নিষ্ঠুর পৈশাচিক কাজ নয় কি? যে সমাজে নিরপেক্ষ সালিশ ব্যতিরেকে কিংবা আইন-আদালতের আদেশের বাইরে এক ব্যক্তির একক অভিলাষ চরিতার্থে এরূপ ডিভোর্স ঘটে থাকে বা ঘটানো সম্ভব, সে সমাজকে সভ্য সমাজ বলবো কি করে? অন্তত অবোধ শিশুর পক্ষ থেকে ঐরূপ সমাজকে কি সভ্য সমাজ বলা যায়? নিষ্পাপ-অসহায়-অবোধ শিশুকে তার জন্মদাতা বাবার ভালোবাসা ও সঙ্গ-সাহচর্য থেকে প্রবঞ্চিত করার অধিকার তার মা’র এমনকি পুরো সমাজেরও কি রয়েছে? যে সমাজ অবোধ শিশুর এরূপ মৌলিক অধিকার হরণ করে নেয়, সে সমাজকে বর্বর সমাজ বললে অত্যুক্তি হবে কি?

স্বামী বিতাড়িত করে একক সকল ক্ষমতার অধিকারী হয়ে শিশু-সন্তানকে বাসায় ফেলে রেখে উক্ত নারী দেশে-বিদেশে ঘুরতে চলে যান বড় দু’বাচ্চার নিকট অফিস-কাজের কথা বলে; আর শিশুকে বলে যান- তোমার জন্যে খেলনা কিনতে যাচ্ছি। আমাদের পরিবারের অভ্যন্তরে হরদম চলা এগুলো কি মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়? এক্ষেত্রে উদাহরণস্বরূপ বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, উক্ত কেস স্টাডিতে শিশুর মা ২০২০ সালের ১৪-১৫ ফেব্রুয়ারি তথা পহেলা ফাল্গুন ও ভ্যালেন্টাইন ডে’র পূর্ণ ছুটির দিনে অবোধ ৩ সন্তানকে বাসায় রেখে ৪ দিনের জন্য একা ঢাকার বাইরে চলে যান। এরূপভাবে ছুটির দিনে কিংবা অফিস টাইমের পর সন্ধ্যায় ও রাতে দেশে ঘুরে বেড়ানো কিংবা বিদেশে চলে যাওয়া কি অবোধ শিশু-সন্তানদের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়? বৃদ্ধ স্বামীকে তার তৈরি বাসা থেকে বিতাড়ন করার পরবর্তী বেলেল্লাপনাগুলো না হয় আপনারা বলবেন অত্যাধুনিক স্ত্রীর স্বাধীনতা। কিন্তু অবোধ ও অসহায় শিশু-সন্তানের প্রতি এমনকি বড় দু’সন্তানের প্রতি এগুলো কি মানবাধিকার লঙ্ঘন নয়? পরিবারের অভ্যন্তরে এরূপ মানবাধিকার লঙ্ঘন দেখেও আমরা-আপনারা যদি না দেখার ভান করি, তাহলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে কস্মিনকালেও কি মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হবে? শুক্র-শনিবার এবং অন্য ছুটির দিনে এ অবুঝ শিশুকে ও অবোধ ৩ ছেলে-মেয়েকে সকালে বাসায় ঘুমে রেখে তিনি চলে যান লেকের ধারে গান শুনতে কিংবা বন্ধুর বাসায় আড্ডা-বিলাসে। অবোধ নিঃসঙ্গ শিশু ঘুম থেকে উঠে বেলা ১২টা অবদি খেলাধূলায় মত্ত থেকে তারপর বাবাকে ফোন করে বলে- বাবা, আমাকে কি বাইরে নিয়ে যেতে পারবে?

বাবা দূর থেকে এসে বাসার নিচে রাস্তায় অপেক্ষা করে (বাসায় ঢুকতে স্ত্রীর মানা) দারোয়ানের সহায়তায় শিশুকে নিয়ে বোনের বাসায় যান। সেখানে জুম্মার পর শিশুকে সকালের নাস্তা কাম দুপুরের লাঞ্চ একত্রেই খাওয়ান। এটি হচ্ছে এই শিশু-জীবনের প্রাত্যহিক রুটিন ঘটনা। তাহলে এ শিশুর প্রতি মা’র মানবাধিকার লঙ্ঘন কতরূপে ঘটেছে এবং ঘটে যাচ্ছে, তা কি কোনো বোদ্ধামহলে কস্মিনকালেও কোনোরূপ জবাবদিহিতায় আসবে? মা’র নিষ্ঠুরতায় ভাঙা পরিবারে এরূপভাবে গড়ে ওঠা সন্তানদের অস্বাভাবিক ও অপ্রকৃতস্থ জীবন দিয়ে তারা সমাজে ও রাষ্ট্রে কীরূপ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করবে? এ নারীকে কে কীভাবে বোঝাবে তার শিশুদের অধিকারের কথা, মানবাধিকারের কথা; কিংবা পরিবার-পরিজনে ন্যায়নীতির চর্চা ও স্বার্থ ত্যাগের কথা, অন্যের অধিকারের তথা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের কথা? স্ত্রীর অহংকার-ঔদ্ধত্য ও স্বার্থান্ধতা এত চরমে নেমেছে যে, সে এখন আর তার ঐ সৎ স্বামীর মধ্যে মহৎ উদ্দেশ্য খুঁজে পায় না। অথচ মাত্র ক’বছর আগেই সে নিজ হস্তাক্ষরে ৮ পৃষ্ঠাব্যাপী স্বামীর প্রশংসায় প্রবন্ধ তৈরি করেছে। যে পরিবারে সন্তানের চোখের সামনে তাদের বাবাকে এমনিভাবে অপমান-অবহেলা, নির্দয়-নিষ্ঠুরতা-শত্রুতা চালায় তাদের মা; যে সন্তান পরিবারে মা-বাবা’র কাছ থেকে উপরোক্তরূপ অধিকার বঞ্চিত হয়; জন্মদাত্রী উচ্চশিক্ষিত মা’র কাছেই মানবতা বঞ্চিত অবহেলিত মা’র কুমন্ত্রণায় ভ্রষ্ট এরূপ সন্তানের কাছ থেকে কী মানবতা, কী নৈতিকতা, কী শিষ্টাচার, কীরূপ কল্যাণ আশা করা যায়? পরিবার হচ্ছে সকল দীক্ষা-শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মূল ভিত্তি। অথচ পরিবারেই যদি মা’র কিংবা বাবার কাছে এরূপ অমানবিক পৈশাচিক নিষ্ঠুর কর্মকান্ডের দীক্ষা ও অভিজ্ঞতা সন্তান পায়; তাহলে সমাজে-রাষ্ট্রে কীরূপ মানবতা দিবে সে সন্তানরা? বিশ্ব মানবতা দিবসের এ লগ্নে এখনই সময় মানবতা বিধ্বংসী ও মানব অধিকার লঙ্ঘনকারী এরূপ মা কিংবা বাবাকে তার হঠকারী, একগুঁয়েমি কান্ডকীর্তনকে চ্যালেঞ্জ করা তথা জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা। শিশু নির্যাতনকারী এবং সঙ্গী হত্যাকারী তথাকথিত ভদ্রবেশী উচ্চশিক্ষিত লেবাসধারী সমাজ দূষণকারীদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা তথা আইনের আওতায় আনা এখনই জরুরি। না হলে আগামীর এ শিশু-প্রজন্ম আমাদেরকে ক্ষমা করবে না; বরং তারাই বহুমুখী প্রতিশোধ নেবে তাদের বর্তমান বিকৃত মননের উচ্ছৃঙ্খল দ্রোহের দাবানলে।

তা কি হলি আর্টিজানের মতো জঙ্গী হিসেবে, নাকি বিমান ছিনতাইকারীর আত্মাহুতিতে, সেটি আমি জানি না। তবে জানি যে, ঐ সকল দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসবাদ ঠেকানোর সময় কিন্তু এখনই এবং তা পরিবারে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী এসব মা-বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদের ও জবাবদিহির আওতায় এনে। কী বলেন, প্রিয় মানবাধিকার কর্মী ও নেতৃবৃন্দ!